বিপদে না যেন করি ভয়

লিখেছেনঃ রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর

বিপদে মোরে রক্ষা কর
এ নহে মোর প্রার্থনা ।
বিপদে আমি না যেন করি ভয়
দুঃখ তাপে ব্যথিত চিতে
নাই বা দিলে সান্ত্বনা ।
দুঃখে যেন করিতে পারি জয় ।

সহায় মোর না যদি জোটে
নিজের বল না যেন টুটে
সংসারেতে ঘটিলে ক্ষতি
লভিলে শুধু বঞ্চনা ।
নিজেরও মনে না যেন মানি ক্ষয় ।

আমারে তুমি করিবে ত্রান
এ নহে মোর প্রার্থনা ।
ত্বরিতে পারি শকতি যেন লয় ।

আমারও ভার লাঘব করি
নাই বা দিলে সান্ত্বনা ।
বহিতে পারি এমনই যেন হয় ।

নন্দ শিরে সুখেরও দিনে
তোমারই মুখ লইব চিনে
দুখেরও রাতি নিধিরও ধরা
যেদিনও করে বঞ্চনা
তোমারে যেন না করি সংশয় ।

Advertisements

আগুনের ভীষণ আঁচ…

আমার দোস্ত সবুর । ক্যানাডায় প্রবাসী । সম্প্রতি একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ওর জীবনকে আবার শুরুতে নিয়ে গেছে ।

ভোর তখন ৪টা । ক্যানাডার তীব্র কনকনে হাড় কাঁপানো শীতে সবুর পরিবার স্বভাবতই আমার বন্ধু আর ওর পরিবার গভীর নিদ্রায় আচ্ছন্ন । হঠাৎ বন্ধুর ঘুম ভাঙ্গল । চোখ মেলতেই ওর নাকে এল কড়া পোড়া পোড়া গন্ধ । উঠে শোবার ঘরের দরজাটা খুলতেই দেখল দূরে কিচেনের কাছে আগুনের লেলিহান শিখা । আমার অভিজ্ঞ মেরিনার বন্ধু সবুর যে জাহাজের ক্যাপ্টেন হিসেবে বহু বছর সমুদ্রে কাটিয়েছে, বুঝতে আসুবিধা হল না ওর বাড়ীতে আগুন লেগেছে । একটা ভয়ের শিহরন ওর শিরদাঁড়া বেয়ে নিচে নেমে গেল । স্ত্রীকে জাগিয়ে দিয়ে এগিয়ে গেল বাচ্চাদের ঘরের দিকে ।

দুছেলে ওর কম্বল মুড়ি দিয়ে আছে । কি শান্তিতেই না ঘুমুচ্ছে ওরা । ভীষণ আঁচ এসে ওর গায়ে লাগল । ও বুঝল আর দেরী করার উপায় নেই । ছেলেদের টেনে তুলে বলল – জলদি । বের হও আগুন লেগেছে ।

ইতিমধ্যে আগুনের তাণ্ডব অজগর সাপের মত ফুসে উঠেছে । ওর স্ত্রী শারমিন কিছু নিতে চাচ্ছিল । কিন্তু তার আর উপায় ছিল না । ততক্ষণে আগুন চারদিকে ছেয়ে গেছে । ওদের বেরিয়ে আসতে হল… সবুরের পড়নে ছিল শুধু লুঙ্গি আর গেঞ্জি ।

নিরাপদ দুরত্তে এসে ওরা দেখল, ওদের এত সাধের এত দিনের তিল তিল করে গড়ে তোলা সংসারটা আগুনের লেলিহান শিখায় অল্প কিছুক্ষনের মধ্যে ভস্মীভূত হয়ে গেল ।