নিয়তি

রচয়িতাঃ শহিদুল আলম

একটি ছোট্ট ঘটনা
তাতেই এই বিরাম্বনা।
এ নিয়ে কত যে রটনা !
সামনে কি আছে জানিনা ।

কেউ বলে হয়েছে পাপের সাজা
জিন-ভুতে ধরেছে
ভিন গায়ে আছে যে এক বাবা খাজা
নিয়ে চল তাঁর কাছে ।

কারো মতে জীবন আমার শেষ
কেউবা বলে হয়েছে বেজায় বেশ
বাড় বড় বেড়েছিল ওর
জীবনে হবেনা কখনও ভোর

হুইলচেয়ারে বসে ভাবি আমি
ছিল জীবন কত দামী
কখনও কি পাব না আর কোন দাম
কে ভেবেছিল, হবে আমার এহেন পরিনাম

আগুনের ভীষণ আঁচ…

আমার দোস্ত সবুর । ক্যানাডায় প্রবাসী । সম্প্রতি একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ওর জীবনকে আবার শুরুতে নিয়ে গেছে ।

ভোর তখন ৪টা । ক্যানাডার তীব্র কনকনে হাড় কাঁপানো শীতে সবুর পরিবার স্বভাবতই আমার বন্ধু আর ওর পরিবার গভীর নিদ্রায় আচ্ছন্ন । হঠাৎ বন্ধুর ঘুম ভাঙ্গল । চোখ মেলতেই ওর নাকে এল কড়া পোড়া পোড়া গন্ধ । উঠে শোবার ঘরের দরজাটা খুলতেই দেখল দূরে কিচেনের কাছে আগুনের লেলিহান শিখা । আমার অভিজ্ঞ মেরিনার বন্ধু সবুর যে জাহাজের ক্যাপ্টেন হিসেবে বহু বছর সমুদ্রে কাটিয়েছে, বুঝতে আসুবিধা হল না ওর বাড়ীতে আগুন লেগেছে । একটা ভয়ের শিহরন ওর শিরদাঁড়া বেয়ে নিচে নেমে গেল । স্ত্রীকে জাগিয়ে দিয়ে এগিয়ে গেল বাচ্চাদের ঘরের দিকে ।

দুছেলে ওর কম্বল মুড়ি দিয়ে আছে । কি শান্তিতেই না ঘুমুচ্ছে ওরা । ভীষণ আঁচ এসে ওর গায়ে লাগল । ও বুঝল আর দেরী করার উপায় নেই । ছেলেদের টেনে তুলে বলল – জলদি । বের হও আগুন লেগেছে ।

ইতিমধ্যে আগুনের তাণ্ডব অজগর সাপের মত ফুসে উঠেছে । ওর স্ত্রী শারমিন কিছু নিতে চাচ্ছিল । কিন্তু তার আর উপায় ছিল না । ততক্ষণে আগুন চারদিকে ছেয়ে গেছে । ওদের বেরিয়ে আসতে হল… সবুরের পড়নে ছিল শুধু লুঙ্গি আর গেঞ্জি ।

নিরাপদ দুরত্তে এসে ওরা দেখল, ওদের এত সাধের এত দিনের তিল তিল করে গড়ে তোলা সংসারটা আগুনের লেলিহান শিখায় অল্প কিছুক্ষনের মধ্যে ভস্মীভূত হয়ে গেল ।

MECA Iftar Party 2012 – মেকা ইফতার পার্টি ২০১২

একটি অনাবিল আনন্দের অনুভুতি । যদিও সিনিয়র, ব্যাচমেট ও জুনিয়রদের মধ্যে মাত্র গুনে গুনে তিনজনের দেখা মিলেছে । তবু আমি আনন্দিত । এর পেছনে কারন আছে । গত ৩০ বছর আমি আমার কলেজ মেটদের থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন । প্রথম ১০ বছরের কারন হল আমার জাহাজি চাকুরী জীবন । পরের ২০ বছরের কারন আমার দুর্ঘটনার পরের হুইলচেয়ার জীবন ।

অনেক পিকনিক, পার্টি এসেছে, গিয়েছে । কিন্তু আমি চরম ইচ্ছে থাকা সত্তেও যোগ দিতে পারিনি । তার একমাত্র কারন ভেনু বাছাই । যে যায়গায় পার্টি রাখা হত, হয় সেটা অনেক দূরে, অথবা হুইলচেয়ার নিয়ে আমি প্রবেশ করতে পারব না ।

এবারেরটা আয়োজকগণ একটি সুন্দর জায়গায় রেখেছেন (হয়তবা নিজের অজান্তেই), যা আমার জন্য খুবই সুবিধাজনক ।

খুবই উৎসাহ নিয়ে গিয়েছিলাম । আমার জন্য এটা ৩৫-৩৬ বছর আগে ফিরে দেখা । যদিও আমার পর কত ব্যাচ এসেছে, গিয়েছে । আমার চেনা মুখ মাত্র জনাতিনেক – আরিফ রেজা, আনিস ও মহিউদ্দিন । একটি বিস্তৃত নবীন, তরুনের সমাবেশ দেখলাম । নস্টালজিয়ায় আক্রান্ত হলাম । ভাল লাগল । খুব… ।