নিয়তি

রচয়িতাঃ শহিদুল আলম

একটি ছোট্ট ঘটনা
তাতেই এই বিরাম্বনা।
এ নিয়ে কত যে রটনা !
সামনে কি আছে জানিনা ।

কেউ বলে হয়েছে পাপের সাজা
জিন-ভুতে ধরেছে
ভিন গায়ে আছে যে এক বাবা খাজা
নিয়ে চল তাঁর কাছে ।

কারো মতে জীবন আমার শেষ
কেউবা বলে হয়েছে বেজায় বেশ
বাড় বড় বেড়েছিল ওর
জীবনে হবেনা কখনও ভোর

হুইলচেয়ারে বসে ভাবি আমি
ছিল জীবন কত দামী
কখনও কি পাব না আর কোন দাম
কে ভেবেছিল, হবে আমার এহেন পরিনাম

Advertisements

বারমিংহামের চিঠি

রচয়িতাঃ শহিদুল আলম

আফসোস লাগে আমার
কি বলব আর ?
আমরা যারা হুইলচেয়ারে চলি
তাদের জন্যে নেই কোন রোড,
নেই ট্রান্সপোর্ট
দুঃখের কথা কি বলি ।ওদেশেই স্বাভাবিক এমন অবস্থা
ওখানকার সিস্টেমের ওপর কারো
নেই আশা, নেই আস্থা ।
হয়ত একদিন হবে ভোর ।
আমরা না হই, প্রজন্ম পর
দেখবে সবই আশার, হবে বিভোর ।অথচ দ্যাখো ।
এখানটায় সুবিধা কত !
হুইলচেয়ার চলতে কোন আসুবিধা হয় নাক ।
ঢালু করে দেয়া আছে বাধা যত ।
রাস্তায় বেরুলেই আছে সুন্দর ফুটপাত ।
আরও আছে বিশালকায় ব্ল্যাক ট্যাক্সিক্যাব ।

তারপর আছে মেট্রোরেল চমৎকার
কোথাও যেতে অসুবিধা হয় না আমার
বাসে আছে সুন্দর রাম্প সিস্টেম
লোকজনও কি অমায়িক, লাইক ফ্রেন্ড ।

একা বাঁচতে চায় না কেউ এদেশে সুখে
সবার পাশে দাঁড়ায় সবাই বিপদে ও শোকে
প্রত্যেকে বাঁচে পরের তরে
কেউ থাকে না অনাদরে ।

বিপদে না যেন করি ভয়

লিখেছেনঃ রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর

বিপদে মোরে রক্ষা কর
এ নহে মোর প্রার্থনা ।
বিপদে আমি না যেন করি ভয়
দুঃখ তাপে ব্যথিত চিতে
নাই বা দিলে সান্ত্বনা ।
দুঃখে যেন করিতে পারি জয় ।

সহায় মোর না যদি জোটে
নিজের বল না যেন টুটে
সংসারেতে ঘটিলে ক্ষতি
লভিলে শুধু বঞ্চনা ।
নিজেরও মনে না যেন মানি ক্ষয় ।

আমারে তুমি করিবে ত্রান
এ নহে মোর প্রার্থনা ।
ত্বরিতে পারি শকতি যেন লয় ।

আমারও ভার লাঘব করি
নাই বা দিলে সান্ত্বনা ।
বহিতে পারি এমনই যেন হয় ।

নন্দ শিরে সুখেরও দিনে
তোমারই মুখ লইব চিনে
দুখেরও রাতি নিধিরও ধরা
যেদিনও করে বঞ্চনা
তোমারে যেন না করি সংশয় ।